যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২nd জানুয়ারি ২০২২

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাইক্রোফাইনান্স কার্যক্রম

          যুবদের সার্বিক কল্যাণে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশিক্ষিত যুবদের আয় সঞ্চারণমূলক কর্মকান্ড/আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রশিক্ষিত যুবরা ঋণ সহায়তা পেয়ে  আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। প্রশিক্ষিত যুবদের ব্যাপকভাবে উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশব্যাপী ০৩(তিন) ধরনের মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঋণ তহবিলের স্বল্পতার কারণে এ সকল কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত যুবদের মাত্র  শতকরা ১০ হতে ১২ ভাগকে ঋণ সহায়তা প্রদানের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

 

ক. আত্মকর্মসংস্থান সৃজনের জন্য ব্যক্তিভিত্তিক মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি।

 

খ. আয় সঞ্চারণমূলক কাজের জন্য গ্রুপভিত্তিক মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি।

 

গ. যুব উদ্যোক্তা মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচি ।

ক.

আত্মকর্মসংস্থান/ব্যক্তিকেন্দ্রিক মাইক্রোফাইনান্স কর্মসূচিঃ

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের সকল উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ক.১

সেবা প্রাপ্তির শর্তাবলীঃ

ক.১.১

 যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে স্বল্প/দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব;

ক.১.২

 প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিষয়ে পরীক্ষমূলক প্রকল্প (পাইলট) শুরু করতে হবে;

ক.১.৩

 আবেদনকারীর পক্ষে প্রকল্প তদারকি ও ঋণ ফেরতের অংগীকার প্রদানে সক্ষম এমন একজন নিশ্চয়তাকারীর প্রয়োজন হবে, যিনি ৩০০/- ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অংগীকার প্রদান করবেন।

ক.১.৪

 নিশ্চয়তাকারী যে পরিমাণ টাকার জন্য নিশ্চয়তা প্রদান করবেন তাকে ন্যুনপক্ষে তার দ্বিগুণ পরিমাণ মূল্যের স্থাবর সম্পদের দলিল, পর্চা ও দাখিলা জমা দিতে হবে (বন্ধক হিসেবে নয়)।

ক.১.৫

নিশ্চয়তাকারী না পাওয়া গেলে সরকারী, আধাসরকারি, বেসরকারি  প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণও নিশ্চয়তাকারী হতে পারবেন।

ক.১.৬

 প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।

ক.২

সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতিঃ

ক.২.১

একজন যুব যিনি উপরের শর্তাবলী পূরণে সক্ষম তিনি নিজ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বরাবরে ঋণ প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেবেন। গোপালগঞ্জ, মাগুরা, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, রংপুর, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, সাতক্ষীরা, পাবনা, যশোর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, জেলার ঋণ প্রত্যাশীগণ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের website (www.dyd.gov.bd) এর ঋণ কার্যক্রম সেবাবক্সে “ঋণের আবেদন ঘরে” ক্লিক করে অনলাইনে আবেদন জমা করতে পারবেন। পর্যাযক্রমে প্রত্যেক জেলাকে অনলাইন আবেদন করার আওতায় আনা হবে।

ক.২.২

আবেদন জমার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অফিস হতে তার আবেদনের ফলাফল অবহিত করা হবে।

ক.২.৩

তিনি যোগ্য বিবেচিত হলে নগদ ২০/- টাকার বিনিময়ে মূল আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে বলা হবে।

ক.২.৪

ঋণ প্রত্যাশীকে আবেদনপত্রের তথ্যাদি যথাযথভাবে পূরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে জমা প্রদান করতে হবে।

ক.৩

ঋণের পরিমাণ, পরিশোধের মেয়াদ, গ্রেসপিরিয়ড, দফা এবং পরিশোধ পদ্ধতিঃ

 

ক.৩.১

অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন যুব তার প্রকল্পের বিনিয়োগ নির্বিশেষে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৬০,০০০/- টাকা, দ্বিতীয় মেয়াদে ৮০,০০০/- এবং তৃতীয় মেয়াদে ১,০০,০০০/- টাকা ঋণ পেতে পারেন।

ক.৩.২

অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায় হতে অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন যুব তার প্রকল্পের বিনিয়োগ নির্বিশেষে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৪০,০০০/- টাকা, দ্বিতীয় মেয়াদে ৫০,০০০/- এবং তৃতীয় মেয়াদে ৬০,০০০/- টাকা ঋণ পেতে পারেন।

ক.৩.৩

ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই হতে তিন বছর পর্যন্ত হবে অর্থাৎ ২৪/৩০/৩৬ টি মাসিক কিস্তিতে সার্ভিসচার্জসহ ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

ক.৩.৪

গৃহীত ঋণ সঠিক ও সুষ্ঠু ব্যবহার অর্থাৎ যথাযথভাবে প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প লাভজনকভাবে পরিচালনার শর্তে ২য় বা ৩য় বার ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।

ক.৩.৫

নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ ক্রসচেকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় বিধায় ‍ঋণ প্রত্যাশীর নামে একটি ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে।

ক.৩.৬

ঋণ হিসাবে বিনিয়োগকৃত অর্থ উৎপাদনে আসার লক্ষ্যে ১-৩ মাস পর্যন্ত গ্রেসপিরিয়ড দেওয়া হয় যা ঋণ মঞ্জুরী কমিটি কর্তৃক অনুমোদন করে। এসময়ে ঋণের কিস্তি ও সার্ভিসচার্জ আদায় করা হয় না।

ক.৪

ব্যক্তিগত সঞ্চয়ঃ

মাইক্রোসেভিংসকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঞ্জুরীকৃত ঋণের ৫% ব্যক্তিগত সঞ্চয় এবং প্রতি কিস্তির সাথে মাসিক ৫০/- হারে সঞ্চয় জমা করতে হয়। জমাকৃত অর্থ প্রকল্প মেয়াদান্তে ফেরত প্রদান করা হয়।

ক.৫

সার্ভিসচার্জঃ

প্রদত্ত ঋণের উপর ৫% হারে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে সার্ভিসচার্জ আদায় করা হয়। উদাহারণস্বরুপ বলা যায় ৫০০০০/- টাকার একজন ঋণ গ্রহণকারীকে ৫% হারে নির্ধারিত মেয়াদে (২ বছর) আসলের অতিরিক্ত ২৪১৬/- টাকা সার্ভিসচার্জ পরিশোধ করতে হয়।

ক.৬

রেকর্ড সংরক্ষণঃ

প্রত্যেক ঋণ গৃহীতাকে ১টি পাশ বই প্রদান করা হয়। পাশবইতে মঞ্জুরীকৃত ঋণের পরিমাণ, সঞ্চয়ের পরিমাণ এবং পরিশোধিত ঋণ ও সার্ভিসচার্জের পরিমাণ,আদায়ের তারিখ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা(সহকারি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা) লিপিবদ্ধ করে তাকে ফেরত প্রদান করবে। পাশবইটি ঋণীর ব্যক্তিগত সম্পদ। কোনভাবেই সরকারী আদেশ ব্যতীরেকে পাশবই কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

খ.

গ্রুপভিত্তিক মাইক্রোফাইনান্স বা পরিবারভিত্তিক ঋণ কর্মসূচিঃ 

প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য এ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়। সাধারণভাবে এ ধরণের যুবদের পক্ষে অসচেতনতা, দরিদ্রতা ও পশ্চাদপদতার কারণে  জেলা এবং উপজেলায় গমন করে প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। যারা এ সেবা গ্রহণ করবেন তাদেরকে কখনও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে আসতে হয় না বরং উপজেলা অফিস তাদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা মাফিক লক্ষ্যভূক্ত গ্রাম নির্বাচন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিবছর উপজেলাসমূহে ১-৩টি গ্রাম নির্বাচন করে কেন্দ্র গঠনের লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করা হয়।

খ.১

  খ.১.১

 

গ্রুপ সদস্য নির্বাচনঃ

লক্ষ্যভূক্ত গ্রামের পরিবারগুলোকে নির্ধারিত মানদন্ডেরভিত্তিতে জরিপ করে কাংখিত পরিবার এবং পরিবার হতে গ্রুপসদস্য বাছাই করা হয়। পরিবার এবং গ্রুপসদস্য বাছাইয়ের মানদন্ডসমূহ নিম্নরূপ;

খ.১.২

 

যে সকল পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ২ লক্ষ টাকার কম, বার্ষিক আয় ৫০,০০০/- টাকার নিচে এবং আবাদযোগ্য ভূমির পরিমাণ এক একরের কম সে সকল পরিবারকে বাছাই করা হয়।

খ.১.৩

 

বাছাইকৃত পরিবার হতে ১৮-৪৫ বছর বয়স্ক (ছাত্র/ছাত্রী, চাকুরীজীবি এবং জনপ্রতিনিধি বাদে) কর্মক্ষম সদস্যদের গ্রুপসদস্য হিসাবে বাছাই করা হয়।

খ.২

দল এবং কেন্দ্র গঠনঃ

 

সাধারণভাবে একটি পরিবারের ৫জন সদস্য নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরী করা হয়। প্রতিটি পরিবার হতে ৫ জন সদস্য না পাওয়া গেলে পার্শ্ববর্তী পরিবারের (রক্তসম্পর্কীয়) সদস্য নিয়ে গ্রুপ তৈরি করা হয়। এ রকম      ৭-১০টি গ্রুপ নিয়ে ১টি কেন্দ্র গঠিত হয়। প্রতিটি গ্রুপের জন্য একজন গ্রুপ (সাধারণভাবে পরিবারপ্রধান) এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ১জন সভাপতি এবং ১জন সচিব নির্বাচিত হয়। গ্রুপ প্রধান তার সদস্যদের কর্মকান্ড অর্থাৎ ঋণের অর্থ যথাযথ ব্যবহার ও ফেরত প্রদানের জন্য দায়ী থাকেন এবং দলের সদস্যদের কেন্দ্র সভায় (সাপ্তাহিক) উপস্থিত করার জন্য কাজ করে থাকেন।

কেন্দ্র প্রধান ও সচিব কেন্দ্রের সকল সদস্যদের ঋণ ব্যবহার ও ফেরত প্রদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সাপ্তাহিক সভার আয়োজন, সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণসহ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিকে তার কাজ ঋণ আদায় এবং রেকর্ড সংরক্ষণে (পাশবই ও কেন্দ্র রেজিস্টার লিপিবদ্ধ) প্রয়োজনীয় সহায়তা করে থাকেন।

কেন্দ্রগুলো তৃণমুল পর্যায়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের অনানুষ্ঠানিক অফিস হিসাবে কাজ করে থাকে। কেননা এ সেবা গ্রহণের জন্য আবেদন, যোগাযোগ, ঋণ ফেরত প্রদানের জন্য তাদেরকে কখনও উপজেলা অফিসে গমন করতে হয় না। অফিসের প্রতিনিধি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে সেবা প্রদান করে থাকেন। কেন্দ্র সাধারণত কেন্দ্রপ্রধান/সচিব অথবা কোন গ্রুপ প্রধানের বাড়ীতে/আঙ্গিনায় স্থাপিত হয়। প্রত্যেক কেন্দ্রে কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।

খ.৩

উপকারভোগী প্রশিক্ষণ এবং ঋণ বিতরণঃ

 

এ কার্যক্রমের জন্য বাছাইকৃত উপকারভোগীগণকে দলে এবং কেন্দ্রে সংগঠিত করার পর তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্র পর্যায়ে ৫দিনে (২০ ঘণ্টার) ঋণের যথাযথ ব্যবহার, ফেরত প্রদান এবং সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণকালীন উপকারভোগীগণের এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি ও সংগ্রহ করা হয় এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ সম্পাদনের ভিত্তিতে গঠিত গ্রুপগুলোকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কর্তৃক চূড়ান্ত স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের শেষ দিন প্রত্যেক সদস্যকে তার বিপরীতে মঞ্জুরীকৃত ঋণ চেকের মাধ্যমে কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীগণকে ঋণের অর্থ নগদায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গমন করতে হয়।

খ.৪

ঋণের পরিমাণ, কিস্তি, গ্রেসপিরিয়ড, গ্রুপ সঞ্চয় এবং পরিশোধ পদ্ধতিঃ

খ.৪.১

প্রথম বছরে গ্রুপের প্রতি সদস্য সর্বোচ্চ ১২০০০/- ঋণ সুবিধা পাবেন। প্রথম বছরে গৃহিত ঋণ নির্ধারিত প্রকল্পে যথাযথ ব্যবহার এবং মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ২য় এবং ৩য় বছর যথাক্রমে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬০০০/- এবং ২০০০০/- টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। এভাবে একটি পরিবারের ৫জন সদস্য ১ম বছরে ৬০,০০০/- ২য় বছরে ৮০,০০০/- এবং ৩য় বছরে ১,০০,০০০/- টাকা ঋণ সুবিধা পেতে পারেন।

খ.৪.২

গৃহিত ঋণ সাপ্তাহিক কিস্তিতে মোট ৫০ কিস্তিতে আসল এবং ৫১ ও ৫২ তম সপ্তাহে ৫% হারে (ক্রমহ্রাসমান) সার্ভিসচার্জ পরিশোধ করতে হয় এবং এভাবে ঋণের মেয়াদ ১বছরে শেষ হয়।

খ.৪.৩

গৃহিত ঋণ ব্যবহার করার সুবিধার্থে সদস্যগণ ২ সপ্তাহ গ্রেসপিরিয়ড পেয়ে থাকেন। গ্রেস পিরিয়ডকালীন কিস্তি এবং সার্ভিস চার্জ আদায় করা হয় না। সাপ্তাহিক কিস্তির সাথে জনপ্রতি ২০/- টাকা সঞ্চয় (ফেরতযোগ্য) জমা প্রদান করতে হয়।

খ.৪.৪

ঋণের চেক গ্রহণের পূর্বে সদস্যগণকে মঞ্জুরীকৃত ঋণের ৫% গ্রুপ সঞ্চয় (ফেরতযোগ্য) হিসাবে জমা প্রদান করতে হয়।

খ.৫

কেন্দ্রসভাঃ

 

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের নির্ধারিত কর্মকর্তা(সহকারি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা) কেন্দ্রের সভাপতি, সচিব এবং গ্রুপ প্রধানের সাথে আলোচনা করে তাদের সুবিধাজনক সময়ে সাপ্তাহিক সভার দিন ও সময় নির্ধারণ করবেন। তিনি নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্র সভার মাধ্যমে ঋণের কিস্তি ও সার্ভিসচার্জ আদায় পূর্বক পাশবই এন্ট্রি এবং কেন্দ্র রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন। কেন্দ্রসচিব সভাপতি এবং দলপ্রধান যথাসময়ে সভার আয়োজন, সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের প্রতিনিধিকে কিস্তি আদায় এবং রেকর্ড লিখনে সহায়তা দেবেন। কোন সদস্য অফিসের পক্ষ হতে নির্ধারিত কর্মকর্তা ব্যতিরেকে কিস্তির টাকা দলপ্রধান, সচিব বা কেন্দ্রপ্রধানের কাছে জমা করবেন না।

খ.৬

রেকর্ড সংরক্ষণঃ

 

কেন্দ্রের প্রত্যেক সদস্যকে ঋণের যাবতীয় তথ্য সম্বলিত একটি পাশবই অফিসের পক্ষ হতে সরবরাহ করা হবে। কর্মকর্তা সাপ্তাহিক কিস্তি আদায় করে তা স্ব-স্ব পাশবইতে এন্ট্রি করে সংশ্লিষ্টদের পাশবই ফেরত প্রদান করবেন। পাশবই ঋণীগণের ব্যক্তিগত সম্পদ। কর্তপক্ষের লিখিত আদেশ ব্যতীত কোন পাশবই কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা অথবা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ। কেন্দ্র রেজিস্টারটি কেন্দ্রের সম্পদ। সাপ্তাহিক সভার কার্যক্রম কিস্তি আদায় বিবরণী, সভায় আলোচিত বিষয় এ রেজিস্টারে কর্মকর্তা কর্তৃক যথাযথভাবে এন্ট্রি করে স্বাক্ষর করার পর কেন্দ্র প্রধান ও সচিব স্বাক্ষর করবেন এবং রেজিস্টারটি তাদের হেফাজতে সংরক্ষণ করবেন।

গ.

যুব উদ্যোক্তা ঋণ বিতরণ কর্মসূচিঃ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে একজন প্রশিক্ষিত যুবকে প্রকল্প গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১.০০ লক্ষ টাকা প্রাথমিক পুঁজি সরবরাহ করা হয়। মুজিব শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা সফল আত্মকর্মী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে তাদেরকে উদ্যোক্তায় পরিণত করার লক্ষ্যে “যুব উদোক্তা ঋণ বিতরণ কর্মসূচি“ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগীয় জেলায় ১০ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। এর সফলতার ভিত্তিতে এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

যুব উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির কর্মসূচির আওতায় এক সফল আত্মকর্মীকে উদ্যোক্তায় উন্নীত করার লক্ষ্যে তার প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য জামানত বিহীন সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ৩.৫০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হবে। ঋণের পরিমাণ ভেদে ৩৬-৪৮ টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। এ ঋণের সার্ভিস চার্জ ৫%।

ঘ.

ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রাঃ

২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৩০০০ জন যুবর মাঝে ১১২.০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 



Share with :

Facebook Facebook